Trade Media
     

মুন্নার


দেশী ও ভিনদেশী উভয় পর্যটকদের কেরালাকে একটি পছন্দের গন্তব্যস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার পিছনে মুন্নার বিশেষ অবদান রয়েছে। মুথিরাপুঝা, নাল্লাথান্নি এবং কুন্দলা এই তিন নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত এবং সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় 1600 মিটার উচ্চতায় স্থিত মুন্নার শহরটি ছিল তদানীন্তন দক্ষিণ ভারতের ব্রিটিশ শাসকদের গ্রীষ্মকালীন ঘাঁটি। 

বিস্তৃর্ণ অঞ্চল জুড়ে চা বাগান, ঔপনিবেশিকালের সব বাংলো, ছোট ছোট নদী, জলপ্রপাত এবং শীতল আবহাওয়া, এই সবই এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যাবলী। এছাড়াও ট্রেকিং ও মাউন্টেন বাইকিংয়ের জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান।

আসুন, এবার আমরা মুন্নার ও তার আশে-পাশের কয়েকটি বিকল্পের সন্ধান করি, যেগুলি এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মনোমুগ্ধকর মুন্নারকে সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করার বিপুল সুযোগ করে দিতে পারে।

ইরাভিকুলম জাতীয় উদ্যানমুন্নার ও তার আশেপাশে অবস্থিত আকর্ষণীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইরাভিকুলম জাতীয় উদ্যান। মুন্নার থেকে আনুমানিক 15 কিমি দূরত্বে অবস্থিত এই উদ্যানটি মূলত অবলুপ্তপ্রায় পাণীদের জন্য বিখ্যাত, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নীলগিরির বুনো ছাগ। আনুমানিক 97 বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত এই উদ্যান নানান ধরনের দুর্লভ প্রজাপতি, জীবজন্তু ও পাখিদের বসবাসস্থল। ট্রেকিংয়ের জন্য উপযুক্ত এই উদ্যানটি থেকে দূরে স্থিত চা-বাগানগুলি ও কুয়াশার আলিঙ্গনবদ্ধ সুদূর প্রসারিত পাহাড়ের ঢালগুলির অপরূপ শোভা দেখতে পাওয়া যায়। এই উদ্যানটি একটি চূড়ান্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে ওঠে যখন পাহাড়ের ঢালগুলি নীলাকুরিঞ্জি ফুলের নীল গালিচায় আচ্ছাদিত হয়ে যায়। এটি পশ্চিমঘাট পর্বতমালার এই অঞ্চলটির একটি স্থানীয় ফুল যা প্রতি বারো বছর অন্তর একবার করে ফোটে। শেষবার এই ফুল ফুটেছিল 2006 সালে।

আনামুদি শৃঙ্গ
ইরাভিকুলম জাতীয় উদ্যানের মধ্যে স্থিত শৃঙ্গের নাম আনামুদি শৃঙ্গ। এটি দক্ষিণ ভারতের পর্বতগুলির মধ্যে উচ্চমত পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা 2700 মিটারের কিছু বেশি। এই শৃঙ্গে আরোহণের জন্য ইরাভিকুলমের বনবিভাগ ও বন্যপ্রাণ কর্তৃপক্ষের থেকে আগাম অনুমতি নিতে হয়।

মাত্তুপেত্তি
মুন্নার শহর থেকে 13 কিলোমিটার দূরত্বে স্থিত আরেকটি দর্শনীয় স্থান হল মাত্তুপেত্তি। সমুদ্র সমতল থেকে আনুমানিক 1700 মিটার উচ্চতায় স্থিত মাত্তুপেত্তি শহরটি সংরক্ষণ স্থাপত্যমূলক জলাধার ও সুন্দর ঝিলের জন্য বিখ্যাত, যেখানে আপনি নৌবিহার করতে পারেন এবং এখানকার পারিপার্শ্বিক অঞ্চল ও ভূদৃশ্যের ভরপুর আনন্দ নিতে পারেন। মেত্তুপেত্তির খ্যাতি এখানকার ইন্দো-সুইস লাইভস্টক প্রোজেক্ট দ্বারা পরিচালিত দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্যও, যেখানে আপনি নানান প্রজাতির উচ্চ পরিমাণে দুধ প্রদানকারী গরু দেখতে পেতে পারেন। মেত্তুপেত্তি এর ঘন সবুজ চায়ের বাগান, বিগন্ত বিস্তৃত তৃণভূমি এবং শোলা বনভূমির জন্য ট্রেকিং করার জন্য নানান ধরনের পাখির বসবাসের জন্য আদর্শ একটি স্থান।

পল্লিভাসল
মুন্নারের চিথিরামপুর থেকে 3 কিমি দূরত্বে অবস্থিত পল্লিভাসল কেরালার একটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। এটি অসম্ভব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি স্থান এবং পিকনিক করার জন্য এটি খুব পছন্দের একটি জায়গা।

চিন্নাকনল
মুন্নারের খুব কাছে অবস্থিত চিন্নাকনল, যার সুউচ্চ জলপ্রপাতগুলি, যা পাওয়ার হাউস ওয়াটারফলস নামে জনপ্রিয়, সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে 2000 মিটার নিচে এসে পড়ে। এই অঞ্চলটি থেকে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার শৃঙ্গগুলি দেখা যায়। 

আনাইরঙ্গল
চিন্নাকনল থেকে সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পৌঁছাতে হয় আনাইরঙ্গলে। মুন্নার থেকে 22 কিমি দূরে স্থিত আনাইরঙ্গল ঘন সবুজ চা-বাগানো মোড়া। এখানকার সুদৃশ জালাধারে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিতান্ত সুখকর। আনাইরঙ্গল জলাধারের চারিপাশ চা-বাগান ও চিরহরিৎ বনভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত।

টপ স্টেশন
মুন্নার থেকে 3 কিলোমিটার মতো দূরত্ব অবস্থিত টপ স্টেশন সমুদ্র সমতল থেকে কম-বেশি 1700 মিটার উচ্চতায় স্থিত একটি শৈলশহর। মুন্নার-কোদাইকানাল সড়কের উপর এইটিই উচ্চতম স্থান। পর্যটকেরা এই স্থানটিকে বেছে নেন এখান থেকে পার্শ্ববর্তী রাজ্য তামিলনাড়ুর বিভিন্ন অঞ্চলগুলির নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। মুন্নারের এই অঞ্চলটির বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে নীলাকুরিঞ্জি ফুল ফুটতে দেখা যায়।

চা সংগ্রহশালা
মুন্নারের চা-বাগানগুলির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের এক নিজস্ব উত্তরাধিকার রয়েছে। এই উত্তরাধিকারের কথা বিবেচনা করে এবং কেরালার উচ্চ ভূমির চা-শিল্পের উৎপত্তি ও বৃদ্ধির সূক্ষ্ম ও আকর্ষনীয় দিকগুলিকে সংরক্ষিত করে রাখার জন্য কয়েক বছর আগে টাটা চা কোম্পানির তরফে মুন্নারে একটি সংগ্রহশালা চালু করা হয়। এই চা সংগ্রহশালায় প্রচুর কিউরিও, ছবি ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে রাখা আছে, যেগুলির প্রতিটিই আমাদেরকে মুন্নারে চা-শিল্প শুরু হওয়া ও বিস্তার লাভ করা সম্পর্কে কিছু না কিছু বলে। মুন্নারের টাটা চা কোম্পানির নাল্লাথান্নি টী এস্টেট অবস্থিত এই সংগ্রহশালাটি পর্যটকদের অবশ্য দ্রষ্টব্য। 

কিভাবে যাবেন:
  • নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন: থেনি (তামিলনাডু), প্রায় 60 কিমি দূরে; চেঙ্গানাচেরী প্রায় 93 কিমি দূরে।
  • নিকটতম বিমানবন্দর: মাদুরাই (তামিলনাডু), প্রায় 140 কিমি দূরে; কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় 190 কিমি দূরে।


 
 
 
Photos
Photos
information
Souvenirs
 
     
Department of Tourism, Government of Kerala,
Park View, Thiruvananthapuram, Kerala, India - 695 033
Phone: +91-471-2321132 Fax: +91-471-2322279.

Tourist Information toll free No:1-800-425-4747
Tourist Alert Service No:9846300100
Email: info@keralatourism.org, deptour@keralatourism.org

All rights reserved © Kerala Tourism 1998. Copyright Terms of Use
Designed by Stark Communications, Hari & Das Design.
Developed & Maintained by Invis Multimedia